নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘বাল্যবিবাহ যার হয়, জীবনভর তার দু:খ রয়।’ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করুন, যৌতুককে না বলুন’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডিবি) গার্লস হাইস্কুলে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিরোধ কমিটির সভা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনাল অনলুস-এর সহযোগিতায় এডুকেশন সাপোর্ট প্রোগ্রাম ওই সভার আয়োজন করে।
এতে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আ ন ম নাজমুলউলা, জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা, সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার গৌতম সরকার, সহকারী সুপারভাইজার ডাবলু সরকার, দুখীরাম মন্ডল, সহকারি শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম, মো. নজিবুল ইসলাম, শামীমা আক্তার, অরুণ কুমার মন্ডল, মো. হাফিজুল ইসলাম, দেবব্রত ঘোষ, কনক কুমার ঘোষ, ভানুবতী সরকার, আজহারুল ইসলাম, গীতা রাণী সাহা, আসমাতারা জাহান প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংস্থার দু:খীরাম মন্ডল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, করোনাকালে সাতক্ষীরায় ৪ হাজারের বেশি বাল্যবিয়ে হয়েছিল। স্কুল বন্ধ থাকার ওই সময়ে বাল্যবিয়ের কারণে ঝরে গেছে বহু শিক্ষার্থী। তাদেরকে আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো যায়নি।
বাল্যবিয়ের কারণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাল্যবিয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। অভিভাবকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন, “মেয়ে প্রেম করে চলে যাচ্ছে, আমরা তো বিয়ে দিচ্ছি না। মোবাইল অবাধ ব্যবহার ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে অনেকে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন।” বাল্যবিয়ের কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বহুবিবাহ বাড়ছে তালাকও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সবার সচেতনা ছাড়া বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব না।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘বাল্যবিয়ের হার কমাতে হলে ইউনিয়নগুলোর বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটিকে আরও সক্রিয় হতে হবে। কাজী, ইমাম ও পুরোহিতদের নিয়ে পৃথক কর্মশালার ব্যবস্থা করতে হবে।
এককভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমরা অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলে সেই পরিবার মেয়েকে অন্য এলাকায় নিয়ে বিয়ে দিচ্ছেন। সবার সচেতনতা ছাড়া বাল্যবিয়ে বন্ধ সম্ভব না।’ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে এগিয়ে আহ্বান জানান বক্তারা।







