বিশেষ প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-খাল ভরাট এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার চাপে উপকূলের মানুষের জন্য নিরাপদ মিঠাপানি এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় নির্ধারণ এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিঠা পানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা।
সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি রিসোর্টের অভিজাত সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মিঠাপানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই সম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
অপরদিকে কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান মুকুল জানান, উপকূল অঞ্চলে নিরাপদ মিঠাপানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে নাগরিক অংশগ্রহণ ও সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তারই নিয়মিত কাজেরই ধারাবাহিকতা এটি। তবে এটি সবুজ দিন সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রণয়নের মিলনমেলাও এটি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপকূলের মানুষের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এখনই মিঠাপানির উৎস সংরক্ষণ, জলাধার পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে।
বেলা’র অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ক্যাম্পেইন অফিসার মুজাফফর ফয়সাল সমগ্র কর্মশালা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় বাস্তবতার আলোকে প্রণীত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবজাল হোসেন, উন্নয়নকর্মী নাজিম মাহমুদ, সিডিওর পরিচালক গাজী আল ইমরান, পরিবেশকর্মী পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু, ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ, নিপা চক্রবর্তী, রুবিনা রুনাসহ অন্যান্যরা। কর্মশালায় মিঠাপানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়।
কর্মশালায় মিঠাপানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়।
বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রুবিনা রুনা বলেন, উপকূল অঞ্চলে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
একইসঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খাল-পুকুর পুনরুদ্ধার এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় কর্মশালা থেকে।







