হাফিজুর রহমান শিমুল : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের যুবক সঞ্জীব সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা মায়া রানী সরকার।

‎সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ‎

লিখিত বক্তব্যে মায়া রানী সরকার বলেন, তার একমাত্র ছেলে সঞ্জীব সরকার (৩০) অত্যন্ত শান্ত, নিরীহ ও সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারের মাছের ঘের দেখাশোনা করতেন। গত ৩০ জুন-২৬ বিকেল ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো ঘেরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘেরের একটি গই থেকে সঞ্জীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ‎

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার আগে থেকেই স্বামীর আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ‎

মায়া রানী সরকার আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা তার ছেলেকে ঘের থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলেও মামলার অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। ইতোমধ্যে একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা পলাতক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলের বয়স মাত্র ৩০ বছর ছিল। তার ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে ছেলের স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আমরাও আজ নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।” ‎তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।

‎সংবাদ সম্মেলনের শেষে মায়া রানী সরকার বলেন, “আমি একজন অসহায় মা হিসেবে দেশের বিবেকবান মানুষ, প্রশাসন ও সরকারের কাছে আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো স্ত্রী স্বামীহারা না হয় এবং কোনো শিশু তার বাবাকে হারিয়ে এতিম না হয়। ‎সংবাদ সম্মেলনে নিহত সঞ্জীবের পিতা, শশুর, স্ত্রী ও শিশুসন্তান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *