নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষার ধ্রুবতারা, সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান অধ্যক্ষ এ টি এম আনিসুর রহমানের আবেগময় বিদায় খুলনার শিক্ষা আকাশের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা, সরকারি সুন্দরবন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবং একজন কিংবদন্তি শিক্ষাবিদ এ টি এম আনিসুর রহমান তার দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের তিন যুগের ইতি টানলেন। এই মহৎ মানুষের অবসরোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বিষাদের এক আবেগঘন মুহূর্ত, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।
২ জুন, ২০২৬, মঙ্গলবার বেলা ১১:৩০ মিনিটে সরকারি আযম খান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অধ্যক্ষকে বিদায় জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকে। সভাকক্ষের পরিবেশ ছিল গম্ভীর এবং এক ধরণের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল, যা তার বিদায়ের গভীরতাকে ফুটিয়ে তুলছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আযম খান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি অত্যন্ত সম্মানের সাথে অধ্যক্ষ আসিসুর রহমানের শিক্ষা জীবনে অবদান এবং তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিএল কলেজের সাবেক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বেতার খুলনার সংবাদ বিভাগের প্রযোজক মো. সিরাজুল ইসলাম, যিনি তার অনবদ্য বাচনভঙ্গিতে পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
সংবর্ধনা সভায় আবেগপূর্ণ অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বহু গুণীজন। তাদের বক্তব্যে বার বার উঠে আসে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের শিক্ষার প্রতি নিবেদন, তার ছাত্রদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং তার নীতিনিষ্ঠ জীবনের কথা। বক্তব্য রাখেন যশোর এম এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. মিজানুর রহমান, লেখক, গবেষক ও সাবেক ব্যাংকার শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আবুল আলম, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক ও দৈনিক সাতক্ষীরার সকালের সহ-সম্পাদক আজগার আলী।
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সংবর্ধিত এ টি এম আনিসুর রহমান। তার বক্তব্য ছিল সকলের জন্য একটি শিক্ষণীয় এবং অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়। তিনি তার সুদীর্ঘ শিক্ষা জীবনের স্মৃতিগুলো মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “শিক্ষা কেবল আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার জীবনের ধর্ম। আমার ছাত্রদের সাথে এই গভীর বন্ধন আমি কখনই ভুলে যাবো না।” তার বক্তব্যের প্রতিটি শব্দে ছিল নিষ্ঠা এবং সততার ছাপ।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল যখন অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়, যা এই সংবাদের সাথে সংযুক্ত। কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য অতিথিরা তার হাতে শ্রদ্ধার স্মারক হিসেবে উপহার হস্তান্তর করেন। এই উপহার ছিল তাদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার প্রতীক, যা তার সারাজীবনের অবদানের স্বীকৃতি। ছবির দৃশ্যটিতে উপহারটি একজন থেকে অন্যজনের হাতে যাওয়ার মুহূর্তটি অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ এবং গদগদ।
অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান হয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু তার শিক্ষার আদর্শ, তার সততা এবং তার ভালোবাসা আমাদের সবার হৃদয়ে সর্বদা জাগ্রত থাকবে। তার এই অবদান খুলনার শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা তার সুস্থ এবং দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করি।







