নিজস্ব প্রতিনিধি : হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের সমসাময়িক নানা সমস্যা, পেশাগত চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টায় শহরের আল-বারাকা মার্কেটের তৃতীয় তলায় পিজ্জা মিলান পার্টি সেন্টারে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মতবিনিময় সভার আহ্বায়ক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার কর্মকর্তা ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান শরীফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরার ড্রাগ সুপার মো. বাশারফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথি) ডা. পার্থ কুমার দে। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডা. সৈয়দ নাসিম আলী, ডা. সিরাজ উদ্দিন খান, ডা. এ.এফ.এম. একরামুল হক, ডা. ওহিদুজ্জামান, ডা. শহিদুল ইসলাম, ডা. নাজমুল আরেফিনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান শরীফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, হোমিওপ্যাথিক ওষুধে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যালকোহল ব্যবহৃত হয়। বিদ্যমান আইন ও সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণের বেশি অ্যালকোহল সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স গ্রহণ করা আবশ্যক।
তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ ও বিধিমালার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি ড্রাগ সুপার মো. বাশারফ হোসেন বলেন, ওষুধ প্রশাসনের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় ড্রাগ লাইসেন্স গ্রহণ করা উচিত। তিনি লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজতর করার পাশাপাশি সকলকে আইনানুগভাবে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, বৈধ কাগজপত্র নিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সত্ত্বেও অনেক সময় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরশীল।
তাই লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় বক্তারা হোমিওপ্যাথি পেশার মানোন্নয়ন, চিকিৎসকদের অধিকার সংরক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আইনানুগভাবে পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এবং সাতক্ষীরার হোমিও কল্যাণ সমিতিকে নতুনভাবে পুনঃগঠিত করে একটি শক্তিশালী হোমিও কল্যান সংস্থা হিসাবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মরহুম ডা. আব্দুল হাদি খান, ডা. সৈয়দ আসাদুজ্জামান এরশাদ জামানসহ প্রয়াত চিকিৎসকদের রুহের মাগফিরাত এবং অসুস্থ চিকিৎসকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ডা. মাওলানা হাফিজুর রহমান। সমগ্র অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ডা. মাওলানা হাফিজুর রহমান ও ডা. আব্দুল ওহাব আজাদ।







