oplus_0

বিশেষ প্রতিনিধি : বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক ও স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জেলা পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে শহরের ঐতিহ্যবাহী নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হয়।

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর অর্থায়নে ও সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক খুদে বিজ্ঞানী ও তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী প্রজেক্ট ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করেন।

​বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা

রবিবার সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের নতুন প্রজন্ম। আজ এখানে খুদে শিক্ষার্থীরা যে সমস্ত বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই আগামী দিনের বিশ্বমানের বিজ্ঞানী ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তাই হবে আমাদের ভবিষ্যতের হাতিয়ার। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক বিজ্ঞানে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিজ্ঞান চর্চা মানুষকে কুসংস্কারমুক্ত ও সৃজনশীল করে তোলে। মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এ ধরনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় নিয়োজিত থাকা অত্যন্ত জরুরি।”

​সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসেম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান ক্লাবের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। ইইএসএস-এর এই উদ্যোগ প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”

সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু বলেন, “স্মার্ট ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর এর জন্য হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এই শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে প্রথাগত শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় না নামিয়ে, তাদের বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ আসিফ রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মুহা. আবুল খায়ের, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবুল হোসেন, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক গাজীসহ অন্যরা ।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব স্মার্ট সিটি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুন্দরবন সুরক্ষা ও বনের নিরাপত্তা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন যুগোপযোগী প্রজেক্ট প্রদর্শন করছে। এছাড়া ই-কমার্স ও স্থানীয় প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে তরুণদের পরিকল্পনাগুলো আগত দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। জেলার সাতটি উপজেলা থেকে সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

জেলা পর্যায় যাচাই-বাছাই কমিটির সূক্ষ্ম মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সেরা প্রজেক্ট ও উদ্ভাবকদের মাঝে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ও জেলা পর্যায় যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মো. আলমগীর কবীর উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই উদ্ভাবনী ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *