রাহাত রাজা : বাংলাদেশের অর্থনীতি ঐতিহ্যগতভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। শতকরা ৬০ ভাগের বেশি মানুষ এখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সেক্টরের সঙ্গে জড়িত। তবে আজকের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি নিয়ে আগ্রহের অভাব চোখে পড়ার মতো। অথচ, দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কৃষি হতে পারে একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, চাকরির পেছনে ছোটার প্রবণতা এবং কৃষিকে কম মর্যাদাপূর্ণ মনে করার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ এই সেক্টরে কাজ করতে চান না।
তরুণদের কৃষি থেকে দূরে থাকার অন্যতম কারণ হলো সমাজে কৃষির প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। অনেকেই মনে করেন, কৃষি কেবল শারীরিক শ্রমনির্ভর কাজ, যেখানে আয়ের সম্ভাবনা সীমিত। অন্যদিকে, সরকারি চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার জন্য তরুণরা অর্থ ব্যয় করছেন, যা তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তাছাড়া, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও জ্ঞানের অভাবও তরুণদের এই খাতে আসার পথে বড় বাধা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম প্রায়শই অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হয়। যারা এই খাতে আসেন, তাদের একটি বড় অংশ সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তবে, সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কৃষি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ফিলিপাইন আখ, ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডোসহ বিভিন্ন ফল এবং শাকসবজির আধুনিক চাষ দেশে এবং বিদেশে প্রচুর চাহিদা তৈরি করতে পারে। ইউটিউব এবং ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে অনেক তরুণ নতুন কৃষি পদ্ধতি শিখছেন এবং সফল হচ্ছেন।
বিশ্ববাজারে কৃষি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত প্রশিক্ষণ, এবং বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা।
তরুণদের কৃষিতে ফিরিয়ে আনতে হলে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। প্রথমত, কৃষি সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে কৃষিকে একটি লাভজনক খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সরকারি উদ্যোগে তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় করতে হবে এবং সফল কৃষকদের উদাহরণ তুলে ধরে তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে হবে।
তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে আকৃষ্ট করা সময়ের দাবি। একটি শক্তিশালী কৃষি খাত গড়ে তোলা না গেলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে না। দেশের বর্তমান সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে, কারণ এটি শুধু তরুণদের কর্মসংস্থানই নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে। কৃষি হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি, যদি আমরা এখনই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করি।







