চট্টগ্রাম, ৮ই ফাল্গুন, (২১ শে ফেব্রুয়ারি) : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন বলছেন, ভাষা আন্দোলনের প্রেরণাই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে শক্তি জুগিয়েছিল। ১৯৫২ সালের চেতনাই জাতিকে অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে বারবার রাস্তায় নামতে সাহস জুগিয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার আজ চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও একুশের কবিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১৯৪৭ সালের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে। যদিও উর্দু ভাষার নিজস্ব সাহিত্য ও সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তবুও অন্যের ভাষা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি প্রমাণ করে যে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এবং নিজেদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, একটি ভাষার শক্তি নির্ভর করে জ্ঞানের সমৃদ্ধির উপর। ইতিহাসে দেখা যায়, একসময় জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল গ্রিস, পরে আরব বিশ্ব এবং তারপর ইউরোপ। তারা বিশ্বের নানা ভাষার জ্ঞান নিজেদের ভাষায় অনুবাদ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেরও উচিত বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার বাংলায় অনুবাদ ও চর্চার মাধ্যমে ভাষাকে আরও শক্তিশালী করা।

ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন বলেন, পৃথিবীর জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষা অন্যতম শীর্ষ ভাষা হলেও অর্থনৈতিক শক্তির অভাবে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রাপ্য মর্যাদা পায়নি। তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সভাপতির বক্তৃতায় বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নয়, বরং এটি ছিল জাতীয় আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার বীজ রোপণের ঐতিহাসিক অধ্যায়।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বাংলা ভাষা শুধু আবেগের বিষয় নয়—এটি জাতিসত্তার ভিত্তি। বাংলা ভাষা বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ ভাষা হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চায় এর ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি সঞ্চয় সরকার, বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক পুরস্কার তুলে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *