কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন “উজিরপুর প্রগতি সংঘ, স্থাপিত-১৯৭৫” কে কেন্দ্র করে টেলিভিশন ও চেয়ার সরিয়ে নেওয়া এবং ক্লাব সংলগ্ন একটি কেওড়া গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা, ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি পেরিফেরি জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত উজিরপুর প্রগতি সংঘ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
স্থানীয় যুবসমাজের বিভিন্ন আয়োজন ও সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবেও ক্লাবটির সুনাম রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিগত সরকারের আমলে ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল বিশ্বাস রেজা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদারের কাছ থেকে আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্লাবের চাবি নিয়ে ভবনে তালা লাগিয়ে দেন।
পরে ক্লাবের ভেতরে থাকা একটি ৪৩ ইঞ্চি টেলিভিশন ও প্রায় ৭০টি চেয়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, ক্লাবের সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া সামাজিক সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, গত ২০ মে ২০২৬ আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে ক্লাবের পেছনে থাকা একটি বড় আকৃতির কেওড়া গাছ কাটার ঘটনাও স্থানীয়দের নজরে আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গাছ কাটার সময় এলাকাবাসী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন, যুবদল নেতা গফর গাজী, আবুবকর সরদার ও আজিবারসহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছ কাটা বন্ধের আহ্বান জানান।ঘটনার বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, গাছ ব্যবসায়ী আমিরুল গাজীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “স্থানীয় ক্লাবের দুই সদস্য বাবলু হাসান সরদার ও বাবু সরদার আমাদের গাছের ডাল কাটার জন্য নিয়ে গিয়েছিল। আমরা শুধু ডাল কেটে চলে এসেছি।ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি সম্পদ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।







