ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুর রহমান জানান, রবিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আব্দুল লতিফকে। এসময় তিনি বুকে ব্যথায় ভুগছিলেন। এরপর রাত ৪টা ১০ মিনিটের সময় মারা যান আব্দুল লতিফ। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলর মনির হোসেন সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

মৃত আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ তাঁকে ও তাঁর ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছিল।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি নিযুক্ত হন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং তাঁর ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই তাঁরা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘ দিন ধরে শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। তীব্র অর্থ সংকটের কারনে তিনি ঐ ভবনটি ফ্লাট আকারে বিক্রি করা শুরু করেন এবং আইনগত জটিলতা এড়াতে উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেন। অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো রেজিস্ট্রি করার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় আসতে পারছিলেন না।

গতবছর ১২ ডিসেম্বর সকালে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক খুলনার বয়রায় পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানকালে অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ ও তাঁর ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *