আলতাফ হোসেন বাবু : সদরের লাবসায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারনে স্থায়ী জলাবদ্ধায় শতশত পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে এবং অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা, তালতলা, কৈখালী, গোপিনাথপুর, বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, রাজনগর, মথুরাপুর, দেবনগর, নলকুড়া সহ লাবসা ইউনিয়নের শতশত পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তালতলা ঈদগাহ মোড় থেকে কৈখালী মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা, মাগুরা আইসক্রিম ফেক্টরী থেকে দাসপাড়ার ইটের সোলিং রাস্তা, মাগুরা কর্মকর পাড়ার পাকা রাস্তা পানির নিচে। রাস্তায় পানি জমার কারনে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের স্কুলে যেতে ব্যাপক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।
এছাড়া মাগুরা গ্রামের পুকুর ও জলাসয় পানিতে ডুবে মাছ ভেসে গেছে। অত্র এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও কৃষি জমি পানিতে ডুবে গেছে।
এদিকে, লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা-গোপিনাথপুর ও বিনেরপোতা এলাকায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দুই ধারে মৎস্য ঘের করার কারনে মহাসড়কে ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া বিনেরপোতা বিসিক শিল্পনগরীর মোড় থেকে বাইপাশ সড়কের লাবসা মোড় পর্যন্ত দুই ধারে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারনে বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাচ্ছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মাগুরা-কৈখালী শৈলকুর বিলে কাটিয়া আমতলার মৃত খন্দকার হায়দার আলীর ছেলে ছানি খন্দকার, তালতলা গ্রামের মৃত. ইজ্জত আলীর ছেলে ইয়ার আলী, লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের আলী হোসেন মেম্বর, আলী হোসেন মেম্বরের ছেলে জুয়েল ও জুলু, মাগুরা গ্রামের মৃত. মোহর আলীর ছেলে রাজু, মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে কামরুজ্জামান, তালতলার তৈয়ব আলী, জিয়াদ আলী, থানাঘাটার কামাল হোসেন, কৈখালীর ইকবাল হোসেন, রতফা, ইমান আলী, মহরম আলী, খেজুরডাঙ্গার সাজু সহ মাত্র ১৫/১৬ টি ঘেরের কারনে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই এই সমস্ত মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা স্কেবেটর ব্যবহার করে ঘেরের বেড়ি বাঁধ উঁচু করেন। যার কারনে একটু বৃষ্টি হলেই গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। এক সময় শৈলকুর বিলের গেটের খাল দিয়ে মাগুরা ও কৈখালী গ্রামের পানি বেতনা নদী দিয়ে সরে যেতো। লাবসা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া কুলুটিয়ার খাল, গোপিনাথপুর খাল দিয়ে গ্রামের পানি বেতনা নদীর মাধ্যমে অপসারন হতো।
কিন্তু গত ৭/৮ বছর কিছু অসাধু মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা অপরিকল্পিত ভাবে ঘের করার কারনে মাগুরা, তালতলা, কৈখালী, গোপিনাথপুর, বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, দেবনগর, মথুরাপুর, রাজনগর, এগারানি সহ লাবসা ইউনিয়নের প্রায় সব কয়টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে দুঃর্বিসহ জীবন-জাপন করছে।
মাগুরা গ্রামের মৃত. আব্দুল ওহাব আলীর ছেলে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, শৈলকুর বিলের ১৫/১৬ টি ঘেরের বিড়িবাঁধ কেটে দিলে মাগুরা ও কৈখালী গ্রামের প্রায় ৪হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে।
মাগুরা গ্রামের সমাজ সেবক আবিদার রহমান জানান, শৈলকুর বিলে সর্ব প্রথম কাটিয়া আমতলা এলাকার ঠিকাদার মরহুম খন্দকার আলী হায়দার মৎস্য ঘের তৈরি করেন।
তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার বড় ছেলে ছানি খন্দকার ওই ঘের পরিচালনা করছেন। তার পর থেকে শৈলকুর বিলে তালতলা গ্রামের মৃত. ইজ্জত আলীর ছেলে ইয়ার আলী, লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের আলী হোসেন মেম্বর, আলী হোসেন মম্বেরের ছেলে জুয়েল ও জুলু, মাগুরা গ্রামের মৃত. মোহর আলীর ছেলে রাজু, মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে কামরুজ্জামান, তালতলার তৈয়ব আলী, জিয়াদ আলী, থানাঘাটার কামাল হোসেন, কৈখালীর ইকবাল হোসেন, রতফা, ইমান আলী, মহরম আলী, খেজুরডাঙ্গার সাজু অপরিকল্পিত ভাবে মৎস্য ঘের করেছে।
অপরিকল্পিত ভাবে ঘের করার কারনে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। আমি এলাকাবাসীর দুভোর্গ নিরশনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
মাগুরা গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক সালমা খাতুন জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিত ভাবে মৎস্য ঘের করার কারনে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ৪ থেকে ৫ মাস আমাদের ঘরের মধ্যে পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারনে পানি বাহিত ঘা-পাচড়া, চুলকানিসহ পানিবাহিত রোগ হচ্ছে। এছাড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বিষাক্ত পোকা-মাকড় ও সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কথায় পানি বন্ধি অবস্থায় শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নারীদের সব সময় ঘর-বাড়িতে থাকতে হয়। এঅবস্থায় নারী ও শিশুরা বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরার বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয় একজন নারী। তাই নারী, শিশু ও জনগণের চরম দুর্ভোগ জলাবদ্ধা থেকে বাঁচাতে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, শৈলকুর বিলের পানি সরানো জন্য আমি স্থানীয় লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান কে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিচ্ছি, উনি মৎস্য ঘের মালিক ও গ্রামবাসীদের নিয়ে আলোচনা করে জলাবদ্ধতার পানি সরানোর ব্যবস্থা করবেন। যদি চেয়ারম্যান ব্যর্থ হয় আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পানি অপসারণ করবো।







