নিজস্ব প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল বিজয়ের নয়, আত্মত্যাগেরও ইতিহাস। সেই আত্মত্যাগের উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদ বিপ্লবী আজমল ও টুটুলকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেছে ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা পরিণত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাসের দায়বদ্ধতা এবং নতুন প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধের এক আবেগঘন মিলনমেলায়।

ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পলটু বাসারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসুদুল হকের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিএল কলেজের সাবেক বাংলা বিভাগীয় প্রধান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আব্দুর হামিদ, সাবেক অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, কবি গাজী শাহজাহান সিরাজ, জাসদ নেতা সুধাংশু শেখর সরকার, উদীচী সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সভাপতি লেখক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফফান রোজবাবুসহ জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে শহীদ বিপ্লবী আজমল ও টুটুল ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক এবং নিবেদিতপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২০ জুলাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা সাতক্ষীরা শহরের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের ধরে নিয়ে যায় যশোরে। নির্মম নির্যাতনের পর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের হত্যা করা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ, তাঁদের আত্মদান জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা কোনো আকস্মিক অর্জন নয়; এটি অসংখ্য শহীদ, নির্যাতিত মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধার রক্ত, অশ্রু এবং আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। তাই শহীদ আজমল ও টুটুলের মতো বীর সন্তানদের জীবনসংগ্রাম ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের সামনে বারবার তুলে ধরতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির সব অপচেষ্টা রুখে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদদের আদর্শ ধারণ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভায় বক্তারা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ বিপ্লবী আজমল ও টুটুলের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সাতক্ষীরা শহরে তাঁদের নামে দুটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। তবে শুধু সড়কের নামকরণই যথেষ্ট নয়; তাঁদের জীবন ও অবদান নিয়ে গবেষণা, স্মারক প্রকাশ, স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তাঁরা।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক গভীর আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত সবাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *