শেখ সিদ্দিকুর রহমান : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ তিনজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ঝাপাঘাট গ্রামের বাসিন্দা নাজমিন নাহার (২৮)-এর পরিবারের মালিকানাধীন বসতবাড়ির পেছনে অবস্থিত মেহেদী বাগানে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে একদল ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সেখানে জোরপূর্বক জমি দখলের উদ্দেশ্যে টিনের চাল নির্মাণ শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে নাজমিন নাহার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা রড, শাবল, কোদাল, দা ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এ হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন শেখ মেহেদী হাসান (৩০), শেখ মুসতাসিন মামুন (২৫) ও শেখ আবুল বাশার (৬৫)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তারা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নাজমিন নাহার গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কলারোয়া আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআর মামলা নং ৫৪/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় বেআইনিভাবে জমি দখলের চেষ্টা, মারাত্মক মারপিট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হলেন—মো. শহিদুল ইসলাম (৪৭), মো. মনিরুল ইসলাম (৪৪), আরিজুল ইসলাম (৫২), মো. জুলফিকার (৩৫), সকলের পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার; মো. ইনজামুল ইসলাম (২২), পিতা মো. শহিদুল ইসলাম; লিটন হোসেন (২৫), পিতা আরিজুল ইসলাম এবং তহমিনা খাতুন, স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম—সকলের ঠিকানা গ্রাম ঝাপাঘাট, উপজেলা কলারোয়া, জেলা সাতক্ষীরা।

মামলার আরজি ও আইনজীবীর বক্তব্য শুনে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন এবং কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি রেকর্ড করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও গভীর রাতে নারী ও পরিবারের ওপর এমন সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় গ্রামজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *