দীপক শেঠ : জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের উৎসাহিত করতে ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেড (HEAD)। প্রিন্ট ও অনলাইন এবং ভিডিও সংবাদ—এই দুই ক্যাটাগরিতে সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সাররা এ পুরস্কারের জন্য অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে শহরের পানসি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার সাংবাদিকতা: স্থানীয় কণ্ঠস্বর, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সহনশীলতা’ শীর্ষক ফলোআপ রাউন্ডটেবিল আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়।

সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অনুসন্ধানী, তথ্যনির্ভর ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রিন্ট ও অনলাইন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দের সংবাদ এবং ভিডিও ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬ মিনিটের সংবাদ বা ডকুমেন্টরি জমা দেওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, আগ্রহী সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সারদের আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান, ঠিকানাসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিবেদনের প্রস্তাবনা ০১৭১৫৯৪১৮৭৪ ও ০১৭১১২৭৪৮২৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে হবে। অনুমোদিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ বা ডকুমেন্টরি ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আজ বৈশ্বিক বাস্তবতা হলেও এর প্রভাব সমানভাবে সবার ওপর পড়ছে না। বাংলাদেশ, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে।

অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী নারী, শিশু, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সমতা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা, অভিযোজনের সফল উদ্যোগ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবাদিকতা জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনাকে আরও কার্যকর করতে পারে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নুরজাহান খাতুন ময়না। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, ফারুক রহমান, কৃষ্ণ ব্যানার্জী, আসাদুজ্জামান মধু, দীপক শেঠ, আলতাফ হোসেন বাবু, অ্যাডভোকেট এস. এম. বিপ্লব, হাবিবুর রহমান সোহাগ, হোসেন আলী, ইব্রাহিম খলিল, মিলন রুদ্র, মৃত্যুঞ্জয় অপূর্ব ও হৃদয় মণ্ডলসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালীভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অপরিসীম। গবেষণাভিত্তিক ও তথ্যসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা যেমন জনসচেতনতা বাড়াবে, তেমনি নীতিনির্ধারণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী জলবায়ু ন্যায়বিচার সাংবাদিকতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই ফলোআপ রাউন্ডটেবিল সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি আরও কার্যকর ও প্রভাবশালী জলবায়ু সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, যুবসমাজ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করে এবং সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *