নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্যামনগর উপজেলা ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে সরাসরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে শক্তিশালী আশাশুনি উপজেলা দল।
আগামী ৩০ আগস্ট রোববার মেঘা ফাইনালে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মুখোমুখি হবে। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আশাশুনি উপজেলা একাদশ বনাম শ্যামনগর উপজেলা দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। মেঘা ফাইনালে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা দলের সাথে মুখোমুখি হবে।
আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর মেঘা ফাইনাল আশাশুনি উপজেলা দল বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রৌদ্রোজ্জল বিকেলে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমার্ধের শুরুতে মুহুর মুহুর আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে শ্যামমগর উপজেলা দল এবং আশাশুনি উপজেলা দল। খেলার ২৪ মিনিটের মাথায় শ্যামনগর উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় গিয়াসের ডি-বক্সের মধ্যে থেকে জোরালে আশাশুনি উপজেলার ডিফেন্ডার ফাহিমের মাথায় লেগে বল সরাসরি ডুকে যায় জালে। ফলে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় শ্যামনগর উপজেলা দল। খেলার ২৬ মিনিটের মাথায় আবারও শ্যামনগর উপজেলার আক্রমণ। হৃদয়ের দুর্দান্ত শর্ট সেভ করেন আশাশুনি উপজেলার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জিকে শান্ত। মুহুর মুহুর আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলাটি হয়ে উঠে প্রানবন্ত। দর্শক পরিপূর্ণ সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের গ্যালারী থেকে প্রতি মূহুর্তে করতালি মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করে।
মেঘাচ্ছন্ন বিকেলে ১-১ গোলের সমতায় বিরতি থেকে ফিরে শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা মাঠে নামে উভয় দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে উভয় দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটের মাথায় আশাশুনি উপজেলার বিদেশি খেলোয়াড় সামসির দুর্দান্ত গোলে ২-১ গোলে এগিয়ে যায়।
সে শ্যামনগর উপজেলার গোলরক্ষক আমিরের মাথার উপর দিয়ে বলটি গোলের মধ্যে চলে যায়। খেলাটি ২-১ গোলে চলতে থাকে। একদিকে আশাশুনি উপজেলা দল গোল ব্যবধানে বাড়াতে মরিয়া অন্যদিকে শ্যামনগর উপজেলা দল গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে মহুর মহুর আক্রমণ করে শ্যামনগর উপজেলা দল। খেলার ৬৫ মিনিটের মাথায় আবারও আক্রমণে আশাশুনি উপজেলা দল।
আশাশুনি উপজেলা দলের ১৭ নাম্বার জার্সিধারী রাজুর দৃষ্টি নন্দন গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে যায়। খেলার ৬৯ মিনিটের শ্যামনগর উপজেলার কর্নার কিক থেকে বিদেশি খেলোয়াড় গ্যাস গোল করে ২-২ সমতায় ফেরে তারা। খেলায় ২-২ গোলের সমতায় ফিরে গোল ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে যায় উভয় দল।খেলার শেষ মূহুর্তে শ্যামনগর উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় গ্যায়িসের দুর্দান্ত শর্ট গোল বারে লেগে ফিরে আসে। ফলে কোন অঘটন না ঘটায় ২-২ গোলের সমতায় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শেষ হয়। এরফলে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারের মাধ্যমে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন কোন দলের জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারে আশাশুনি উপজেলা দল ৪ টির মধ্যে ৪টি গোল করেন। অপর দিকে শ্যামনগর উপজেলা দল ৪টির মধ্যে ২ টি গোল করতে সক্ষম হয়।দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নাসির উদ্দিন। সহকারী আবু ওয়াহেদ বাবলু ও ওয়াসিউদ্দীন খান বিপুল। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ছিলেন নাজমুল। ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমান।
এছাড়া মাঠে ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন, শাহাজাহান আলী শাহিন ও আশরাফ হোসেন। খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন আশাশুনি উপজেলার গোলকিপার জি কে শান্ত।
এদিকে জাকজমক পূর্ণ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে খেলা উপভোগ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মিজ্ কাউসার আজিজ, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু সহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।







