নিজস্ব প্রতিনিধি ; সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের প্রায় ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ছয় মিটার প্রশস্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ছয় মাস আগে তিন কোটি দশ লক্ষ টাকার বরাদ্দে কাজ শুরু হলেও অদৃশ্য কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।

পৌরসভার তত্ত্বাবধানে একটি বিদেশী প্রকল্পের অর্থায়নে এই কাজটি শুরু করেছিল পটুয়াখালির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। তবে বাস্তবে কাজটি করছিলেন সাতক্ষীরা শহরের একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার।

কাজ শুরুর প্রথম পর্যায়ে সড়ক দু’পাশ খনন করে সড়ক প্রশস্ত করা হয়, বালি-খোয়া দেওয়া হয় এবং পুরোনো পিচ তুলে রোলার দিয়ে ইজিম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নতুন ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করে রোলার টেনে সড়কটি মোটামুটি সমানও করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদা, জলাবদ্ধতা ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের অনুরোধ ও প্রকৌশলীর পরামর্শে সড়কের অর্ধেক অংশ—কাজী জাফর আনোয়ার দুলাল সাহেবের বাড়ির গেট থেকে পুরাতন সাতক্ষীরা পর্যন্ত—আরসিসি ঢালাই করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সড়কসংলগ্ন কাঁচা-পাকা ড্রেনটি আরসিসি ঢালাই করার দাবিতে শেখ সিদ্দিকুর রহমান, আল মোস্তানসির বিল্লাহ আল মাহমুদ, অ্যাড. সৈয়দ রেজওয়ান আলি, কাজী জাফর আনোয়ার দুলালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পৌরসভার প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করেন। তবে এ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা—সড়কটি নির্মাণের পর ভারী যানবাহনের চাপে দুর্বল ড্রেন ভেঙে পড়বে, ফলে সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ড্রেন সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে সড়কটিতে খোয়া-বালির ওপর প্রতিদিন বহু গুণ বেশি ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়কটি এখন ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। পথচারী, ইজিবাইক, সাইকেল ও রিকশা-ভ্যান চালকদের নাক-মুখে ধুলা ঢুকে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, এমনকি সাধারণ বাসিন্দারা প্রতিদিন এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

কী কারণে ছয় মাস ধরে এই সড়ক সংস্কারের কাজ বন্ধ রয়েছে, তা কেউই স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে উদাসীন। অথচ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে।

স্থানীয় নাগরিকদের দাবি—দ্রুততম সময়ে কাজ পুনরায় শুরু করে সড়ক ও ড্রেনের বাকি অংশ সম্পন্ন করা হোক। নাহলে অচিরেই এই সড়কটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে, এবং সরকারি বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়বে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *