কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাল দলিল তৈরি করে ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী মৌজার ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মোছাঃ লাইলী বেগম (৫৮) নামের এক নারী। উক্ত বিরোধপূর্ণ জায়গায় উভয় পক্ষের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পি-৯৩০/২৫ সাতক্ষীরা। ১৪৫ ধারা ফৌঃকাঃবিঃ, স্মারক নং ১৪১১, তারিখ: ২৫/০৫/২০২৫ তারিখ। আদেশ নং- ১। মোতাবেক নোটিশ জারী করা হয়েছে।

আদালতের পরবর্তী ধার্য্য তারিখ: ১৫.০৯.২০২৫। তিনি সাতক্ষীরা আমলী আদালত-০১ এ এজাহারনামা জমা দেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য নির্ধারিত তারিখে শুনানির দিন ধার্য করেছেন। বাদীর দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (সি.আর-৪৯৪/২৫, বিজ্ঞ আমলী আদালত-০১, সাতক্ষীরা)। বাদী মোছাঃ লাইলী বেগম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তার পিতা মৃত নূর হোসেন সরদার ওয়ারেশ সূত্রে সাতক্ষীরার ফিংড়ী মৌজায় ২.০৯ একর জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সেই জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

এ চক্রের সদস্যরা হলেন-পরিতোষ বিশ্বাস, দীপংকর বিশ্বাস, সুভংকর বিশ্বাস, সুধাংশু বিশ্বাস, হিমাংশু বিশ্বাস, প্রকাশ বিশ্বাস, বাসুদেব বিশ্বাস, বাসু বিশ্বাস, দিবাংশু কুমার বিশ্বাস ও অরুনাংশু বিশ্বাস। এদের সকলেই ফিংড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং বিভিন্নভাবে জাল দলিল ও রেকর্ড সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাদী আরও জানান, তার অজান্তে প্রতারণার মাধ্যমে তার দাদা হারান সরদার এবং পিতা নূর হোসেন সরদারের নাম জাল করে ১৯৬০ ও ১৯৭৪ সালে দলিল সৃষ্টি করে আসামিরা সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। অথচ দলিলের তথাকথিত দাতাদের প্রকৃত কোনো সম্পত্তি ছিল না এবং তারা সংশ্লিষ্ট জমির কোনো অংশের মালিক বা ওয়ারেশ ছিলেন না।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম দফায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ করলে আসামিরা একপর্যায়ে ১০ কাঠা জমি দিতে রাজি হলেও পরে তা থেকে সরে আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন, বাদী তার পিতার কবরস্থানে গেলে দেখতে পান আসামিরা কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছে। প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি ও ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। বাদী উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ড/অ) ইস্যুর আবেদন করেছেন। বাদীপক্ষ দাখিলকৃত নথিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ওয়ারেশ সনদ, জাল দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য জাল কাগজপত্র সংযুক্ত করেছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, “এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাতের একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। আমরা আদালতে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *