দীপক শেঠ, কলারোয়া : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্ৰহনে অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে সাতক্ষীরা -১ সংসদীয় আসন (তালা-কলারোয়া) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির পক্ষ থেকে জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাগে ৫ টার দিকে উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভোট গ্রহনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে লিখিত বক্তবঢ পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা-১( তালা- কলারোযা) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের হাবিবুল ইসলাম হাবিব আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিল, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কলারোয়া তুলশীডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বোরখা পরে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের ভোটার অধিকার প্রয়োগ করেছে, কেরালকাতা ইউনিয়নের ১৪৪ নং ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা না করে, দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট দিয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন যা সম্পূর্ণভাবে সন্ধেজনক, ১৪৭ নং সিংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ধীর গতিতে ভোটগ্রহণ করায় অনেক ভোটার ভোট না দিয়ে চলে গেছে, তুলসীডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জনক মোঃ রবিউল ইসলাম পিতা-মৃত আবদুল লতিফ খান চিকিৎসা জনিত কারণে ঢাকা অবস্থান করলেও তার ভোট প্রদান করা হয়ে গেছে, বাটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভিজাইডিং অফিসার বাংলাদেশ জামাতে ইসলামের এজেন্ট এবং কয়েকজন নেতাকে ১১ ফেব্রুয়ারী রাতে অবৈধভাবে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করার অনুমতি প্রদান করেন, বাংলাদেশ জামাত ইসলামের পৌরসভার আমির মোঃ ইউনুস আলী বাবুকে ১১ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে কলারোয়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ বহু কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়, ১১/০২/২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ ইজ্জত উল্লাহ কলারোয়া জিকেএমকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলারোয়া মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে সহ অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে কথা বলে, যাহা নির্বাচন আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং সন্দেহজনক, সংসদ নির্বাচনে আনসার নিয়োগ সর্বোত্তমভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, অনেক কেন্দ্রে তাদেরকে দিয়ে সরাসরি ভোট চাইতে দেখা গেছে, সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছেও থেকেও আমরা আইনগত কোন সহযোগিতা পাই নাই, এছাড়া ধীরে ধীরে আরো অনেক অভিযোগ আমাদের নিকট জমা হচ্ছে আমরা পরবর্তীতে আপনাদের সরবরাহ করব।
সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ, একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জাতি দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে । জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটার অধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিদিন নির্বাচন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি যে অতীতে কোন নির্বাচন প্রায় ৮০% ভোট প্রদানের নজির নাই। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত যোগসাজসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরাজয় বরণ করতে হবে এটা খুবই দুঃখজনক।
তাই এই কারচুপি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল পূর্বক পূর্ণনির্বাচন চাইছি। সাথে সাথে এই কারচুপি নির্বাচনের কুশীলব হিসাবে কাজ করায় জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবি করছি। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কলারোয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দসহ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বাচ্চু, সাবেক অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান তুহিন, মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন,জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মমতাজুল ইসলাম চন্দন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজালাল আহমেদ সাজু ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।







