নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘যুবার হাতেই দিন বদল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সেবাদানকারীদের সঙ্গে নেক্সাস প্রোগ্রামিং শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগষ্ট-২৬) সকাল ১০ টায় এল্লারচর চিংড়ি খামার সম্মেলন কক্ষে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় নেক্সাস প্রোগ্রামিং শক্তিশালীকরণ এ সভায় সিডো সাতক্ষীরার প্রধান নির্বাহী, শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস।
বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: রোকনুজ্জামান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারন অফিসার রাফিয়া ফাহমিদা রিমা, সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ফায়ার ফাইটার শাহরিয়ার, ওসিসি মো: আব্দুল হাই সিদ্দিকী, ব্রক্ষরাজপুর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র শফিক-উদ-দৌলা সাগর, জেডিএফ সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, জেলা ঈমাম সমিতির সেক্রেটারী মাববুবুর রহমান, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল।
যুব-নেতৃত্বাধীন নেক্সাস শক্তিশালীকরন এডভোকেসিতে সাতক্ষীরার কমিউনিটি কনসালটেশনের ফলাফল এবং উপজেলা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এক্টিভিস্টা সাকিব হাসান।
নেক্সাসের মূল লক্ষ্য মানবিক সহায়তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শান্তি ও সুরক্ষাকে সমন্বিত করে পদ্ধতির মাধ্যমে সাতক্ষীরার দুর্যোগপ্রবণ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বহুমাত্রিক ঝুঁকি হ্রাস করা, যুব নেতৃত্ব বিকাশ করা এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি, বাজেট ও পরিষেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
সভায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অংশগ্রহণে চিহ্নিত বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। নেক্সাস প্রোগ্রামের আওতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অংশগ্রহণে জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সংকট, টেকসই জীবিকা ও কর্মসংস্থানের অভাব, সাইবার অপরাধ, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য, মাদকাসক্ত ও যুবদের সামাজিক ঝূঁকি, লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে কৃষি বিপযয়, জলবায়ূ পরিবতন জনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। তরুণ প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের তথ্য, জনগণের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন সাতক্ষীরা বহুমাত্রিক ও আন্ত:সম্পর্কিত সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত নেক্সাস পদ্ধতি একটি কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে পারে। যুবদের নেতৃত্বে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহন নিশ্চিত করে সমস্যা সম্পদ ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সমাধান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়ন শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি, জলবায়ূ পরিবর্তন এবং জরুরী সাড়া প্রদানের সমন্বিত পরিকল্পনা কমিউনিটির সহনশীলতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সিভিল সোসাইটি ও কমিউনিটির যৌথ অংশগ্রহন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সর্বোপরি যুব নেতৃত্বাধীন এই কমিউনিটি নেক্সাস প্লান সাতক্ষীরার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমুলক, জলবায়ূ-সহনশীল, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন এসব সমস্যা ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।







